স্পোর্টস ডেস্ক : দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রেখে চলেছেন লিওনেল মেসি। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়া এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার সামনে এবার অপেক্ষা করছে আরও একটি অনন্য মাইলফলক।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সোমবার (২২ জুন) শক্তিশালী প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ডালাসে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে গোল করতে পারলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে একক মালিকানা প্রতিষ্ঠা করবেন মেসি।
প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে দুর্দান্ত সূচনা করে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে দলের আক্রমণভাগ ছিল দুর্দান্ত ছন্দে। অন্যদিকে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে অস্ট্রিয়াও। ফলে গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও নজর থাকবে মেসির দিকে। ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থকের চোখ থাকবে এই ম্যাচে, কারণ আরেকটি গোলই তাকে নিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের নতুন উচ্চতায়।
তবে অস্ট্রিয়া সহজে পথ ছেড়ে দিতে রাজি নয়। দলের কোচ ও খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত তারা। আর্জেন্টিনার তারকাবহুল আক্রমণভাগকে থামাতে রক্ষণাত্মক কৌশলের পাশাপাশি দ্রুত পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
এদিকে আর্জেন্টিনা চাইবে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে যেতে। আর সেই লক্ষ্য পূরণের রাতে মেসি নতুন কোনো ইতিহাস গড়তে পারেন কি না, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আগ্রহের বিষয়।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে ক্যারিয়ারের ৬১তম হ্যাটট্রিক করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফরোয়ার্ড। সেই ম্যাচে করা তিন গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬-তে, যা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডের সমান। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে একটি গোলই মেসিকে নিয়ে যাবে সবার ওপরে।
এছাড়া গোল করতে পারলে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়বেন তিনি। এর আগে এই রেকর্ড গড়েছিলেন ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের জাস্ট ফঁতেন এবং ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের জর্জিনহো।
৩৮ বছর বয়সেও মেসির প্রভাব অটুট। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ১০টি শটের মধ্যে আটটিতেই সরাসরি অবদান ছিল তার। ছয়টি শট নিজে নিয়েছেন, পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য দুটি সুযোগও তৈরি করেছেন।
তবে আর্জেন্টিনার শক্তি শুধু মেসিতেই সীমাবদ্ধ নয়। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজের নেতৃত্বে মাঝমাঠ এমন নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছে যে পুরো ম্যাচে আলজেরিয়া একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।যার ফলে মাঝমাঠ ছিল দুর্দান্ত। তাদের নিয়ন্ত্রণে পুরো ম্যাচে আলজেরিয়া লক্ষ্যে কোনো শটই রাখতে পারেনি।
অন্যদিকে জর্ডানকে হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসে রয়েছে অস্ট্রিয়া। টানা চার ম্যাচে জয় পাওয়া ইউরোপীয় দলটি এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে চমক দেখানোর স্বপ্ন দেখছে।
অস্ট্রিয়ার তরুণ মিডফিল্ডার পল ওয়ানার বলেন, আমরা জানি আর্জেন্টিনা কতটা শক্তিশালী দল। তাদের প্রতি আমাদের যথেষ্ট সম্মান রয়েছে। তবে নিজেদের সামর্থ্যের ওপরও আমাদের বিশ্বাস আছে। আমরা যদি সেরা খেলাটা খেলতে পারি, তাহলে যেকোনো দলকেই চাপে ফেলতে পারব।
তবে ম্যাচের আগে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে অস্ট্রিয়া। অধিনায়ক অধিনায়ক ডেভিড আলাবা, স্টেফান পোশ ও আলেসান্দ্রো শপফর খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও রক্ষণভাগে গনসালো মন্টিয়েলের চোট নিয়ে উদ্বিগ্ন।
এই ম্যাচে জয় পেলে এবং অন্য ম্যাচে জর্ডানের কাছে আলজেরিয়া পয়েন্ট হারালে, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করবে আর্জেন্টিনা। এখন দেখার বিষয়, অস্ট্রিয়ার বাধা পেরিয়ে মেসি নতুন ইতিহাস গড়তে পারেন কি না।